jump to navigation

বিএনপি কাউন্সিলের টুকিটাকি ডিসেম্বর 11, 2009

Posted by bangla71.net in উৎসব, বাংলাদেশ, রাজনীতি, সংবাদ, সমসাময়িক.
Tags: , , ,
trackback

বিএনপি'র দলীয় পতাকা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কাউন্সিল চলাকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মূল মঞ্চের ডান দিকে সামনে সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে শ খানেক চেয়ার ও কয়েকটি টেবিল রিজার্ভ রাখা হয় সাংবাদিকদের জন্য। এসময় বিএনপির কয়েকজন কাউন্সিলর সাংবাদিকদের চেয়ারে বসে ছিলেন। প্রথম দিকে তাদের কেউ উঠতে বলে নি। কিন্তু ধীরে ধীরে সাংবাদিকরা আসতে থাকলে এক পর্যায়ে আর বসার জায়গা ছিল না। তখন বিএনপির একজন সেচ্ছাসেবক এসে সাংবাদিক ছাড়া যারা বসে আছেন তাদের উঠে যেতে অনুরোধ করেন। তার অনুরোধে বেশ কয়েকজন উঠেও যান। নাছোড়বান্দা একজন বলছিলেন আমি অসুস্থ। আমার প্রেসার বেড়ে গেছে। তাই এখানে একটু বসেছি। আপনাদের সাংবাদিকতো আরও অনেকেই দাড়িয়ে আছেন। আমি একা উঠলে আর এমন কী হবে? তার সে কথা মানতে রাজি না কাউন্সিলের সেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি। তিনি বার বার ওই ব্যক্তিকে উঠতে বলছেন। অথচ তিনি উঠতে চাচ্ছেন না। এক পর্যায়ে তিনি বলে উঠলেন ভাই এটা নিয়ম না। একথা শুনে সাংবাদিকরা সবাই হেসে উঠলো। আসলে কে অনিয়ম করছে সেটাই ভাবার বিষয়।

খাবার রুমে ঢুকতে গিয়ে কাউন্সিলর ডেলিগেটদের ধাক্কাধাক্কিতে নাখোশ সাংবাদিকরা

বিএনপির কাউন্সিল শুরু হয় সকাল সাড়ে দশটায়। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য শেষ করেন বেলা দুটায়। তখন মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সকলের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আছে। যার যার নির্ধারিত স্থান থেকে খাবার সংগ্রহ করবেন। সাংবাদিকদের জন্য সম্মেলন কেন্দ্রের নীচ তলার দক্ষিণপূর্ব কোনে একটি হলরুমে খাবার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ওই রুমের দরজার সামনে ভীড় করেন বিএনপির শত শত কাউন্সিলর আর ডেলিগেট। গেটের দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা বার বার বলছিলেন এখানে শুধু মিডিয়া কর্মীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিডিয়ার বাইরে যারা আছেন তারা এখানে ঢুকবেন না। তবুও কে শোনে কার কথা। সবাই জোড় করে ওই রুমে ঢুকতে চায়। সেসময় ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। ধাক্কাধাক্কির মাঝে পড়ে নাজেহাল হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। খাবার রুমে ঢুকে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। তাদের বলতে শোনা যায় মাথাপিছু দুইশত টাকা নাকি খাবারের জন্য ধার্য করা হয়েছে। তাহলে খাবারের মান এরকম কেন? দুইশত টাকায়তো আরও ভাল খাবার পাওয়ার কথা। এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মীর্জা আব্বাস সাংবাদিকদের খোঁজ নিতে আসেন। তিনি খাবার নির্ধারিত হলরুমে ঢুকে সাংবাদিকদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন, খাবার কেমন হয়েছে? সব ঠিক আছে কী? একজন সাংবাদিক তার উত্তরে বলেন, না ঠিক নেই। অপর এক সাংবাদিক মীর্জা আব্বাসের কাছে বলেন, আরে ভাই খাবার ঠিক থাকলে কী হবে, এখানে ঢুকতে গিয়েতো যুদ্ধ করতে হলো। আগে গেট সামলান। তারপর আমাদের খবর নেন।

কাউন্সিলে সাংবাদিকরা পেয়েছেন ব্লেজার টাই

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে এবার বিএনপি বিটের সাংবাদিকের দেওয়া হয়েছে ব্লেজার। তার সঙ্গে ছিল ধানের শীষ প্রতিক ছাপানো লাল রং এর একটি টাই ও একটি রুমাল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঢাকায় কর্মরত সকল ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট ও সংবাদ সংস্থায় কর্মরত যে সকল রিপোর্টার ও ফটো সাংবাদিক বিএনপির সংবাদ কভার করেন তাদের সবাইকে কাউন্সিল উপলক্ষে ব্লেজার ও টাই দেওয়া হয়। জানা গেছে প্রায় দেড় শতাধিক সাংবাদিককে কাউন্সিল উপলক্ষে এ উপহার দেওয়া হয়। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে সব সাংবাদিককে ব্লেজার দেওয়া হলেও অনেকেই সে ব্লেজার গায়ে জড়িয়ে আসেন নি কাউন্সিলে। এ নিয়ে সাংবাদিকরা একে অপরকে বলতে শোনা যায় ব্লেজার কোথায়? কয়েকজন আবার ব্লেজার না পেয়ে দুঃখও করেছেন। তারা বলেন আমরা সোহেল ভাই এর কাছে ব্লেজার চাইতে যাবো। উল্লেখ্য, মারুফ কামাল খান সোহেল বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব।

রাস্তায় জ্যাম

ঈদুল আজহার পরে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর রাস্তাগুলোতে তেমন একটা জ্যাম ছিল না। ঈদের সময় যারা ঢাকায় অবস্থান করেছেন তারা ঈদের পরদিন থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত অনেকটা আরামেই ছিলেন। ঢাকার কোন রাস্তায় তেমন জ্যাম লক্ষ করা যায়নি। এমনকি এ সপ্তাহের প্রথম দিন গত রোববার সকল অফিস আদালত পুরোপুরিভাবে খুললেও রাজধানীর কোন সড়কে জ্যাম ছিল না। এরই মধ্যে যানজট কমাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের পরিক্ল্পনা। এ অবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকাল দশটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষে দেশের সব এলাকা থেকে বিএনপির কাউন্সিলর আর ডেলিগেটরা ঢাকায় আসেন। মঙ্গলবার সকালে তারা সবাই তারাতারি কাউন্সিলে যোগ দেওয়ার জন্য যে যেখানে ছিলেন সেখান থেকে রওয়ানা করেন আগারগাঁও বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের উদ্দেশে। এজন্য ঢাকার অনেক রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় সকাল সাড়ে আটটার সময় শাহবাগ, শেরাটন হোটেলের মোড়, সোনারগাঁও মোড়, ফার্মগেট, বিজয় স্মরণি মোড়, জিয়া উদ্দানের, মোড়, আগারগাঁও, তালতলা শেওড়াপাড়া থেকে মীরপুর দশ নম্বর পর্যন্ত সড়কে জ্যাম বেশ জ্যাম ছিল। শের-ই বাংলানগর সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে রোকেয়া স্মরণিতে সবচেয়ে বেশী জ্যাম লেগে যায়। এ জ্যাম ছিল সকাল এগারোটা পর্যন্ত। এসময় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা গাড়ী নিয়ন্ত্রণ করতে হিমিশিম খায়। রাস্তায় অনেককে বলতে শোনা যায় এ কয়দিন তো ভাল ছিল আজ সকালে হঠাৎ জ্যামের কারণ কী। কেউ কেউ বলছিলেন বিএনপির কাউন্সিলের কারণেই এত জ্যাম। আবার কেউ বলছিলেন কাউন্সিলে আর কত লোক এসেছে যে রাস্তায় জ্যাম হবে। অপর একজন বললেন, কম কিশে কাউন্সিলর আর ডেলিগেটইতো ১৫ হাজারের উপরে। আবার তাদের সঙ্গেওতো অনেক লোক এসেছে।
 

মন্তব্য»

No comments yet — be the first.