মক্কায় আকস্মিক ভারী বর্ষণ : বিপাকে হাজিরা নভেম্বর 26, 2009
Posted by bangla71.net in আন্তর্জাতিক, আরব, উৎসব, ধর্ম, সমসাময়িক.Tags: মক্কা, হজ, haj
trackback
মক্কায় আকস্মিক ভারী বর্ষণে বিপাকে পড়েছেন হজ পালন করতে আসা মুসলিম নর-নারীরা। ভারী বর্ষণের কারণে ইতোমধ্যেই মক্কার সড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পবিত্র হজের প্রথম দিন বুধবার সৌদি সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। বার্তা সংস্থা বিবিসি জানায়, বৃষ্টিতে বেশিরভাগ তাঁবু পানিতে ভেসে যাওয়ায় অনেকে মিনায় রাত কাটানো বাদ দিয়ে মক্কায় ফিরে যান। সেখান থেকে আরাফাত ময়দানের পথে রওনা হন তারা।
বার্তা সংস্থাগুলো আরও জানায়, বৃহস্পতিবার আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে খুতবা শোনা ও ইবাদত-বন্দেগিতে হজের মূল অনুষ্ঠান পালন করছেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলমান। এদিকে, সৌদি সরকার মুসল্লিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা ও উত্তেজিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। চলতি বছরে সোয়াইন ফ্লু আতঙ্কের বিষয়টি মাথার রেখেই সৌদি কর্তৃপক্ষ পবিত্র হজ কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ কারণে কয়েক মাস আগে থেকেই মুসল্লিদের জন্য সৌদি সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বেশ কিছু ক্লিনিক তৈরি করে। যাতে রোগটি মহামারি আকারে রূপ নিতে না পারে।
সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. খালেদ মার্গলানি জানান, ইতোমধ্যে যে চারজন সোয়াইন ফ্লুতে মারা গেছেন, তারা আগে থেকেই হৃদরোগ ও ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। এছাড়া, আরও ৬৭ জন হাজির শরীরে (এইচ১এন১) ভাইরাস পাওয়া গেছে। এ কারণে স্থানীয় হাজিদের চাপ কিছুটা কম হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রতিবারের মত এবারও লাখ লাখ মুসল্লি পবিত্র নগরী মক্কাতে জমায়েত হয়েছেন। আর ভারী বর্ষণের কারণে এই সকল মুসল্লির সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থাগুলো জানায়, মুসল্লিরা ছাতা মাথায় দিয়ে, আবার কেউবা ফ্লু থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক পরে হজের প্রথম ধাপ পবিত্র কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করেন। তবে ভারী বর্ষণের কারণে অন্যান্যবারের চাইতে এবার রাস্তাগুলোতে মুসল্লিদের ভীড় ছিল তুলনামূলক কম। সৌদি আরবের আবহাওয়া দপ্তর থেকে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থাগুলো জানায়, মক্কায় শীত মৌসুমে বৃষ্টির ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে ভারী বর্ষণের ঘটনা বিরল। পবিত্র হজের সময় ভারী বর্ষণের ঘটনা গত কয়েক বছরে কখনই দেখা যায়নি। বন্যার কারণে ইতোমধ্যেই মক্কার প্রধান সড়কের এক পাশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্য পাশেও চলাচল কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ভোর থেকেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ দিন কাবা শরিফ তাওয়াফের (প্রদক্ষিণ) পর হজ পালনরতরা মিনায় যান। সেখান থেকে তারা আরাফাতের ময়দানে যান। আরাফাতের ময়দানে ইবাদতের পর তারা আবার মিনায় ফিরে জামারাতে প্রতিকী শয়তানের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করেন। শুক্রবার পুনরায় কাবায় ফিরে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা। আরাফাতের ময়দানে যাওয়ার সময় লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লাব্বায়েক লা শারিকা লাকা লাব্বায়েক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি-মাতা লাকা ওয়ালমুলক-ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। এর অর্থ হল, আমি হাজির। হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।
আরাফাতের মাঠে জোহরের নামাজের আগে বয়ান ও খুতবা পাঠ করবেন সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি। খুতবা শেষে জোহর ও আছরের ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে জামাতে কসর নামাজ আদায় করবেন তারা। সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরাফাত ময়দানেই অবস্থান করবেন সবাই। আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ বা অবশ্য পালনীয়।





মন্তব্য»
No comments yet — be the first.