এথেন্সে বাংলাদেশীদের বেহাল অবস্খা! দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজ করেও স্বজনের জন্যে কিছু পাঠাতে পারেন না। নভেম্বর 5, 2009
Posted by bangla71.net in আন্তর্জাতিক, ইউরোপ, প্রবাস.Tags: athens, এথেন্স, গ্রীস, greece
trackback

গ্রীসে ৩০ হাজারেরও অধিক বাংলাদেশীর প্রায় সকলেই মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যìত কাজ করে যে আয় করছেন তা দিয়ে মাসে ১০০০ ইউরো (১৫০০ ইউএস ডলার) দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়া সম্ভব হয় না। তদুপরি তাদেরকে প্রতিনিয়ত বর্ণ- ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে পুলিশ ও স্খায়ী বাসিন্দা কর্তৃক। এথেন্সে ১ নভেম্বর শুরু ৫ দিনের ‘জাতিসংঘ গেস্নাবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট’ সম্মেলনে যোগদানরত নিউইয়র্কের স্বেচ্ছাসেবী সংস্খা ড্রাম ( দেশীজ রাইজিং আপ এন্ড মুভিং) এ নির্বাহী পরিচালক মিস মোনামি মলিক এথেন্সে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অসহনীয় পরিস্খিতির চিত্র উপস্খাপন করেন। এথেন্স সিটিতেই বাস করেন ১২ হাজার বাংলাদেশী-যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই অর্থাৎ তারা অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট। তাদের অধিকার সুরক্ষার সংকল্পে গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ দুয়েল কালচারাল এসোসিয়েশন অব এথেন্স।’ এর সভাপতি ফারুক হোসেনও ঐ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ফারুক হোসেন সে সময় মিস মোনামিকে জানান, এখানকার বাংলাদেশীর প্রায় সকলেই কাজ করেন ছোট ছোট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী অথবা বাসার চাকর হিসেবে। ঘর-বাড়ি ক্লিন করেন তারা। দৈনিক ১২ ঘন্টা করে কাজের বেতন পান সর্বোচ্চ ৪৫ ডলার। রিফ্যুজি হিসেবে স্বীকৃতরা ৬ মাপস মেয়াদী রেড কার্ড পেয়ে থাকেন। কিন্তু বেকার হয়ে পড়লে এই রেড কার্ড নবায়নের সুযোগ থাকে না। কষ্টার্জিত অর্থে বাসা ভাড়া নিতে গেলে অবশ্যই রেড কার্ড দেখাতে হবে বাড়ির মালিককে। এথেন্সের বাংলাদেশীরা গ্রীক ভাষা বুঝেন না এবং কথাও বলতে পারেন না। এটা বড় সমস্যা কাজকর্মে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে অবশ্যই গ্রীক ভাষায় কথা বলতে হয়। গ্রীসের অধিকাংশ নাগরিকই ইংরেজীতে কথা বলেন। কিন্তু ইমিগ্র্যান্টদের সাথে ইংরেজীতে কথা বলতে চান না। এটা এক ধরনের ঘৃণাবোধ।
মোনামি মলিকের কথা হয় এথেন্সের রাþতায় কর্মরত ফরহাদের সাথে। মেহেরুপুরের সìতান ফরহাদ বলেছেন, ১০ লাখ টাকা দালালকে দিয়ে এথেন্সে আসার জন্যে বাড়ি ছাড়ি। পায়ে হেঁটে এবং ট্রাকে চড়ে আফগানিþতান হয়ে ইরান এবং তারপর তুরস্কে পৌঁছি। তুরস্ক থেকে গ্রীসে এসে পৌঁছা পর্যìত ৪ মাস অবর্ণনীয় দুর্দশা পোহাতে হয়। কিন্তু সে সব কষ্ট গায়ে লাগেনি। ভেবেছি গìতব্যে পৌঁছার পরই ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। বাড়িতে রেখে আসা স্বজনের জন্যে মোটা অর্থ পাঠাতে পারবো। এক সময় নিজেও মোটা তহবিল গড়ে ফিরে যাবো প্রিয় মাতৃভূমিতে। ফরহাদ বলেন, এখানে আসার পর সে সব স্বপ্ন বলেই মনে হচ্ছে। রাþতায় দাঁড়িয়ে খেলনা বিক্রি করছি। কেননা আমাদের বৈধ ডক্যুমেন্ট নেই এদেশে বাস করার। সে জন্য ভাল কাজ পাচ্ছি না। যে কাজ করছি তা থেকেও ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছি না। ঝড়-বৃষ্টি-খরা সবটাই মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। তবুও কাজ করছি। কাজ না করলে স্বজনের জন্যে টাকা পঅটাবো কীভাবে? ফরহাদ বলেন, এদেশের মানুষ খুব ভাল নজরে আমাদের দেখে না। ঘৃণা করে ওরা। পুলিশও সবসময় পিছে লেগেই রয়েছে। ধরা পড়লেই সর্বনাশ। সবকিছু কেড়ে নিয়ে জেলে দেবে এবং ডক্যুমেন্ট না থাকলেই পাঠিয়ে দেবে বাংলাদেশে।
এথেন্স সিটি পরিভ্রমণকালে মোনামি কিছু ছবি উঠিয়েছিলেন। তা দেখে দৌড়ে আসে এথেন্সের পুলিশ এবং ক্যামেরা থেকে সবকিছু মুছে ফেলতে বলেন। মোনামি মনে করছেন যে তিনি যদি শ্বেতাঙ্গ হতেন তাহলে পুলিশ হয়তো তার সাথে তেমন আচরণ করতো না। উল্লেখ্য যে, গ্রীসের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে এক কোটি। এরমধ্যে ২০ লাখই হলেন ইমিগ্র্যান্ট। এতদসত্বেও ইমিগ্র্যান্টদের সাথে তারা সবসময় নির্দয় আচরণ করছেন। এথেন্সে এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ইমিগ্র্যান্টদের অবস্খা পর্যালোচনা এবং পরিস্খিতির উন্নয়নে সুপারিশ তৈরী করা হবে। ২০০৬ সালে মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সিদ্ধাìত অনুযায়ী ২০০৭ সালে জাতিসংঘ এই ফোরাম গঠন করে। সারাবিশ্বে মাইগ্রেশন পলিসি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্খা ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে এ সম্মেলন থেকে তাগিদ দেয়া হচ্ছে।
সূত্র : এনা, এথেন্স থেকে




মন্তব্য»
No comments yet — be the first.