jump to navigation

দেশে বিভিন্ন স্থানে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত অগাষ্ট 23, 2009

Posted by bangla71.net in বাংলাদেশ, সংবাদ, সমসাময়িক.
Tags: , ,
trackback

flood_bd2

দেশের বিভিন্ন স্থানে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পাবনা, ফরিদপুর, নওগাঁ ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে গাইবান্ধায়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। বন্যার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নদীতে ভাঙন। কয়েকটি স্থানে নদীর তীররক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে গেছে।

বগুড়া-গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-দিনাজপুর মহাসড়কের গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কামারপাড়া থেকে কাইয়াগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ ডুবে যাওয়ায় শনিবার রাত থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ঢাকার সঙ্গে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়ের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন নীলফামারীর সৈয়দপুর রংপুর হয়ে যাতায়াত করছে। কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জে নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

গাইবান্ধা : জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রোববার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানিগঞ্জ, সাপমারা, ফুলবাড়ি, কাটাবাড়ি, দরবস্ত ইউনিয়নের আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ওই উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি জানান, পানি বাড়ায় রোববার গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত। শনিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহবাজ গ্রামের মহসিনের ছেলে ফরিদুল (৮) বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ উপজেলার বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, দরবস্ত ইউনিয়নের ছোট দুর্গাপুর, ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফতেউল্ল¬াপুর, মালাধর ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়াসহ ৭টি পয়েন্টে করতোয়ার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মালাধর ও ফতেউল্লাপুর এলাকার লোকজন বাঁশ গেড়ে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুল্লাল সিংহ জানান, যমুনা নদীর ভাঙনে উপজেলার ঘুড়িদহ ও চিনিরপটল গ্রামের আট শতাধিক ঘর-বাড়ি এবং হাসিলকান্দি ক্রস বাঁধের প্রায় আধা কিলোমিটার অংশ বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট বাঁধও এখন হুমকির সম্মুখীন। জেলা প্রশাসক বিকাশ কিশোর দাস বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকায় ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দিদের উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর : রাজবাড়ির গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার পানি বাড়ায় ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ, চরমাধবদিযা, ডিক্রিরচর এবং চরভদ্রাসন উপজেলার চরহাজীগঞ্জ ও চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রোববার সকালে চর ভদ্রাসন উপজেলার চরহাজীগঞ্জ বাজারের কাছে পদ্মার তীর সংরক্ষণ বাঁধের আরও ১০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। আগের দিন একই স্থানে বাঁধের ৪০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, ভাঙনস্থলে কংক্রিটের ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকউল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে আলিয়াবাদ, চরমাধবদিয়া ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের অন্তত এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েকশ’ একর জমির ফসল।

আলিয়াবাদ ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আক্তার-উজ-জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, স্কুলে পানি ঢুকে পড়ায় পূর্বচর টেপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গদাধরডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়কের ওপর বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। চরভদ্রাসন উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মৃধা জানান, তার এলাকার নিুাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া হালিম ফকিরেরডাঙ্গী, মুন্সীডাঙ্গী, ধনাই মৃধারডাঙ্গী পূর্ব ও ধনাই মৃধারডাঙ্গী পশ্চিম গ্রামে পদ্মায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। রোববার সকাল পর্যন্ত ৫০ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে গেছে অন্তত ২০টি পরিবার।

নওগাঁ : কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী ও গোয়ালা ইউনিয়নের বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন জানান, দুই ইউনিয়নের প্রায় ছয়শ’ একর জমির আমন ও আউশ ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, পুনর্ভবা নদীর পানি বেড়েছে। তবে কি পরিমাণ বেড়েছে সেটা তিনি জানাতে পারেননি।

পাবনা : পদ্মা ও যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গত ২৪ ঘন্টায় সুজানগর উপজেলার ছয়টি, সদরের পাঁচটি, ঈশ্বরদীর চারটি, বেড়ার ১৩টি গ্রামের বিস্তিীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেড়া, সুজানগর, ঈশ্বরদী ও সদর উপজেলায় পদ্মা ও যমুনা নদীর ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। পাবনার জেলা প্রশাসক ড. এএফএম মনজুর কাদির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। পাবনা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ বলেন, ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে উপদ্রুত এলাকায় সংস্থার কর্মীরা কাজ করছে।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেঠুয়া দক্ষিণ বিলের বাঁধ ধসে কপোতাক্ষের পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষ্ণকাঠি, জেঠুয়া ও চরকানাইদিয়া গ্রাম। জেঠুয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ধসে গেছে। এ অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে। তলিয়ে গেছে তিন গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের মানুষের ঘর-বাড়ি ও বীজতলা। বৃষ্টি ও কপোতাক্ষ নদের পানির তোড়ে এসব গ্রামের কাঁচা ঘর-বাড়ি ধসে পড়ছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান রেজা-উন-নবী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধটি দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বেতনা নদীর উপচে পড়া পানিতে সদর উপজেলার আঁখড়াখোলা ও ঝাউডাঙ্গা বাজারের একাংশ প্লাবিত হয়েছে। এতে ঝাউডাঙ্গা, লাবসা ও বল্লী ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আঁখড়াখোলা ও ঝাউডাঙ্গার পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে পানির তোড়ে দত্তবাগ-ঝাউডাঙ্গা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্ম‏পুত্র, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও জেলার সাতটি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে আছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৬০টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাফুদৌলা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ধরলায় ৪ সে. মি. তিস্তায় ২১ সে. মি. ব্রহ্মপুত্রে ১২ সে. মি. এবং দুধকুমারে ৫ সে.মি. পানি কমেছে। তবে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমারে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কুড়িগ্রাম খামারবাড়ি থেকে জানা যায়, বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে না যাওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির আমন ও সবজির ক্ষেত পাঁচদিন ধরে পানিতে ডুবে আছে। এসব ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশংকা করছে কৃষি বিভাগ। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, এসব ক্ষেতে আবার ফসল লাগানোর মতো বীজ ও ধানের চারা তাদের হাতে রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি ৫ সে.মি. কমেছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেব অনুযায়ী যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার (১৩.৭৫ মিটার) ১৪ সে. মি নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা অজিত কুমার বিশ্বাস জানান, “কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পানির কারণে যমুনা নদীর পানি হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পায়। এতে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে জেলার শাহজাদপুর, কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন। এ ছাড়া সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খিচুরীপড়া, পাঁচিল ও দ্বিয়ার পাঁচিল গ্রামের প্রায় পাঁচশ’ পরিবারের ঘর-বাড়ি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। প্রতিটি বাড়িই এখন ২/৩ ফুট পানির নিচে রয়েছে। সদর, কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে প্রায় দেড় কিলোমিটর কাঁচা সড়ক সম্পূর্ণ এবং পাঁচ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

মন্তব্য»

No comments yet — be the first.