প্রসঙ্গ আফগান নির্বাচন অগাষ্ট 19, 2009
Posted by bangla71.net in আন্তর্জাতিক, এশিয়া, রাজনীতি, সংবাদ.Tags: afganistan, আফগান নির্বাচন, election
trackback

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের প্রাসাদ এবং পুলিশ সদর দপ্তরে রকেট হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। কাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে এ হামলার ঘটনা ঘটল। এদিকে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তালেবানের হুমকির মুখে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা গতকাল শেষ হয়েছে।
সহিংসতা : নির্বাচনসংক্রান্ত সর্বশেষ সহিংসতায় গতকাল কাবুলে ব্যাপকভাবে সুরক্ষিত প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সীমানা লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া হয়। এই হামলায় ভবন চত্বরে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। এদিকে একই দিন দ্বিতীয় রকেট হামলা চালানো হয়, পুলিশ সদর দপ্তরে। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে মোবাইল ফোনে এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেন।
গতকাল ন্যাটো বাহিনীর বহরে আত্মঘাতী হামলায় সেনাসহ কমপক্ষে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এ ছাড়া গতকাল পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে দফায় দফায় রকেট হামলা হয়েছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। তালেবান দাবি করেছে, এই হামলা তারাই চালিয়েছে। তালেবান গুপ্ত হামলায় গত সোমবার দেশটির উত্তরাঞ্চলে প্রাদেশিক কাউন্সিলর নির্বাচনে একজন প্রার্থী নিহত হন। এর আগে নিহত হয়েছেন আরও তিন প্রার্থী।
দুর্নীতি-জালিয়াতি : নির্বাচনকে ঘিরে জালিয়াতি এবং দুর্নীতির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে বিবিসির এক তদন্তে। বিবিসির হয়ে এক আফগানি ক্রেতা সেজে কাজ করার সময় তাঁকে হাজার হাজার ভোটিং কার্ড কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। আর প্রতিটি কার্ডের জন্য দাম চাওয়া হয় ১০ ডলারেরও কম। তদন্তে দেখা গেছে, একই ব্যক্তির জন্য বেশ কয়েকটি ভোটিং কার্ড তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার গ্রুপ জানিয়েছে, নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা এবং জালিয়াতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া কম ভোটার উপস্থিতি, সহিংসতা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
ভোটার ও ভোটকেন্দ্র : এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। তবে সহিংসতার আশঙ্কা ও তালেবান হুমকির মুখে প্রায় ১২ শতাংশের মতো ভোটকেন্দ্র খোলা সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী: প্রেসিডেন্ট পদে ব্যালটে নাম থাকছে মোট ৪১ জনের। এদের মধ্যে ১১ জন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমর্থনে আগেই রণে ক্ষান্ত দিয়েছেন। লড়াইয়ের মাঠে সবার থেকে অবশ্যই একটু বেশি এগিয়ে আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তবে সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। এ ছাড়া কারজাইর অপর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক অর্থমন্ত্রী আশরাফ ঘানি।
কাউন্সিলর নির্বাচন : প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি ৩৪টি প্রদেশে ৪২০ জন প্রাদেশিক কাউন্সিলরকেও নির্বাচিত করবে ভোটাররা। প্রাদেশিক কাউন্সিলরের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন হাজার ১৯৬ জন প্রার্থী। এঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী আছেন ৩২৮ জন। নিরাপত্তা প্রস্তুতি: নির্বাচনের অন্তত এক মাস আগে থেকে জঙ্গিদের শক্ত অবস্থানগুলোতে হাজার হাজার মার্কিন এবং ন্যাটো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তার পরও কমপক্ষে আটটি জেলা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গেছে। ভোটের দিন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে প্রায় তিন লাখ আফগান ও বিদেশি সেনা। ন্যাটো বাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা সব ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান বাদ দিয়ে নির্বাচনের দিন ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে কাজ করবে।
তালেবান হুমকি: নির্বাচন বানচাল করতে গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে হুমকি দিয়েছে তালেবান। ভোটকেন্দ্রে হামলার এই হুমকির মুখে ভোটার উপস্িথতি কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুত্র : প্রথম আলো, বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স অনলাইন।




মন্তব্য»
No comments yet — be the first.