অভিবাসী কর্মীদের উপর নির্যাতন বাড়ছে ! জুলাই 4, 2009
Posted by bangla71.net in প্রবাস, বাংলাদেশ.Tags: অভিবাসী, নির্যাতন
trackback

দূতাবাসগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখছে না
বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী কর্মীদের ওপর স্থানীয় শিল্প মালিকদের অত্যাচার-নির্যাতন বেড়েই চলেছে। মালয়েশিয়া থেকে লেবানন, কুয়েত, দুবাই, জর্ডান, লিবিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াতেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। অনেকটা চুপিসারেই দেশগুলোতে নির্যাতিত হচ্ছেন বাংলাদেশী কর্মী। কিন্তু এক্ষেত্রে স্থানীয় হাইকমিশন অফিসে বারবার ধরনা দিয়েও কোন সুফল পাচ্ছেন না তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের নির্যাতনের কথা সবচেয়ে বেশী শোনা যাচ্ছে জর্ডান এবং লিবিয়াতে। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম-কানুন ঠিকমত না মানার কারণেও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিল্প মালিকদের সঙ্গে বাংলাদেশী দালালদের যোগসাজশে কর্মীদের বেতন কম দেয়া, ওভারটাইমের পয়সা না দেয়ার কারণেই সমস্যাগুলো আন্দোলন-বিক্ষোভ এবং পরে থানা-পুলিশ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। এর বাইরে অনেক ক্ষেত্রে আবার মহিলা কর্মীদের নির্যাতনের কাহিনীও চলে আসছে।
সম্প্রতি জর্ডান থেকে বাংলাদেশর বেশ কিছু নির্যাতিত গার্মেন্টস শ্রমিক ইত্তেফাককে টেলিফোন করে জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন থেকে গার্মেন্টস মালিকদের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মালিক পক্ষ নানাভাবে খরচ কমাতে গিয়ে কারখানা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে কর্মীদের হোস্টেলে আসা যাওয়ার গাড়ি প্রত্যাহার করে নেয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে এক পর্যায়ে গত ১৭ মে বাংলাদেশী তিন কর্মীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তার প্রেক্ষিতেই গার্মেন্টস কারখানার গুদাম ঘরে ৬২ মহিলাসহ ১৩০ বাংলাদেশী কর্মী বন্দী রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইত্তেফাকে টেলিফোন করে তাদের দুর্ভোগের কথা জানান অবরুদ্ধ কর্মীদের একজন রাব্বী। তিনি বলেন, বন্দী হওয়ার পরে জর্ডানে বাংলাদেশী লেবার কাউন্সিলর কারখানা পরিদর্শন করে গেলেও তাতে তাদের সমস্যার কোন সুরাহ হয়নি। এ অবস্থায় দেশে ফিরে আসার আকঙক্ষাও ব্যক্ত করেছেন তারা। রাব্বী বলেন, যদি এখানে কাজ করা সম্ভব না হয়, তাহলে সরকার অন্তত আমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করুক।
অবরুদ্ধ কর্মীরা জানান, বন্দী হওয়ার পর থেকে কোনরকম খাবার এবং পানি দেয়া হচ্ছে না তাদেরকে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি মহিলা কর্মীরাও এর বাইরে ছিল না। প্রতিবাদ করতে গিয়েই ঝামেলা বাড়তে থাকে। এক্ষেত্রে স্থানীয় হাইকমিশন অফিস এবং পরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালেও লিখিত অভিযোগ করেন তারা। কিন্তু এত সব অভিযোগ করতে গিয়ে উল্টো বন্দিত্ব ভোগ করতে হচ্ছে বাংলাদেশী কর্মীদের।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর লিবিয়াতে শ্রম বাজার খোলার ব্যবস্থা করা হয়। তবে যেসব কর্মী ঐ দেশে যাচ্ছেন তাদের কাছ থেকেও আসছে নির্যাতনের নানা কাহিনী। কয়েক বছরে লেবাননে যারা গিয়েছেন তাদের মধ্যে মহিলা কর্মীর সংখ্যাই বেশী। সেখানে বাংলাদেশী মহিলা কর্মীদের প্রায় প্রত্যেককেই জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হচ্ছে। কখনো কখনো যৌন ব্যবসায়ও তাদের নিয়োজিত করা হচ্ছে। লিবিয়াতে থাকতেই গত মাসে কয়েম রানু নামের এক মহিলা কর্মী ইত্তেফাকের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করেছেন। সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন তিনি। তিনি জানান, এমন অকথ্য নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে যে, এর চেয়ে জীবন গেলেও সেটা আরো ভালো ছিল।
এসব প্রসঙ্গে কথা বলতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ মনছুর রাজা চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, জর্ডানে-লিবিয়াতে আগেও এমন অভিযোগের কথা আমরা শুনেছি। বিশেষ করে জর্ডানে তো একবার রাষ্ট্রদূত অফিসের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হয়েছিল। তখন আমাদের কর্মীরা ক্ষতিপূরণও পেয়েছিল। তিনি বলেন, সবখানেই কর্মীদেরকে কম টাকা দিয়ে কাজ করাতে চায়। সে কারণেই আসলে সমস্যাটা বাধে। তাছাড়া ইদানীং এ ধরনের নির্যাতনের প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাও একটি বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ান পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের উত্তরে সে দেশের শ্রমমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অন্তত ৪২ হাজার অভিবাসী কর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ান শ্রমিক। তারপরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। মজার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশী দূতাবাস এক্ষেত্রে বিশেষ কোন উদ্যোগ না নিলেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ বিষয়ে কাজ করছে। বছরের শুরুতে কুয়েতে বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়েও নির্যাতিত হয়েছেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা।
জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করা বাংলাদেশী কর্মীদের অধিকাংশই অবৈধ। ২০০৬ সালের শেষদিকে জোট সরকার কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে যে, অবৈধ কর্মীদের নিয়ে গেলেই তার বদলে তারা বৈধ কর্মী নেবেন। সে চুক্তির পরেও যেসব কর্মী দেশে ফিরে আসেননি তারা এখন পদে পদে বিভিন্ন সমস্যা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মুন্সিগঞ্জের ছেলে আয়াজ হোসেন চঞ্চল এই প্রতিবেদককে টেলিফোন করে জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের দূতাবাসের কোন কর্মকর্তাই কখনো তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেননি। দেশের নতুন পাসপোর্ট নিতে গেলেও দূতাবাস থেকে তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তাদের পক্ষে তা করা সম্ভব নয়।
এদিকে গত শুক্রবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে মানবসম্পদ রফতানি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেন, দূতাবসগুলোর দক্ষতা বাড়াতে তারা কাজ করবেন। যে কোন বিপদে- আপদে তারা যাতে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন সেজন্য সরকার উদ্যোগী হবে।
সূত্র : ইত্তেফাক




Din din shudhu dukkher matra berei cholechhe…..vai ekta ashar bani shunan!!!!
____________________________________________________________________
prakrito.wordpress.com
আশার বাণী নাইরে ভাই
যায় দিন ভালো আসে দিন খারাপ