ইউরোপে সামার ভেকেশান জুন 15, 2009
Posted by প্রবাস কণ্ঠ in ইউরোপ, উৎসব, প্রবাস.Tags: ইউরোপে, ভেকেশান, সামার, europe, summer, vacation
trackback

ইবিসা, স্পেন
ওয়াসিম খান পলাশ : ইউরোপ চমৎকার একটি মহাদেশ। একটি উন্নত মহাদেশ। প্রতিটি দেশের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি,আলাদা ভাষা। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও ইউরো মুদ্রা করে মহাদেশটিকে একত্রিত করার চেষ্টা করা হলেও কিছু কিছু পার্থক্য থেকে যাবে চিরদিন।। আর ইউরোপীয়ানরা এই পার্থক্যগুলো উপভোগ করেন খুব। যেমন ধরুন খাবারের ব্যাপারটি। ফ্রেঞ্চ ফুড, ইটালীয়ান ফুড, ইংলিশ ফুড, কিংবা স্পেনিস ফুড, প্রতিটি দেশের নিজস্ব সব মজার মজার খাবারের ম্যেনু। জামা কাপড়ের সাইজের মাপও ভিন্ন। প্রতিটি রেডিমেট কাপড়ে বিভিন্ন দেশের সাইজের মাপ লিখা থাকে।
ইউরোপে সামারে এক মাসের জন্য জিনিষ পত্রের উপর বিশেষ মুল্য হ্রাস দেয়া হয়। খাবার সামগ্রী সহ প্রায় সব জিনিষের উপর দেয়া হয় এই ডিসকাউন্ট। এ সময়টাতে যেমন ইউরোপীয়ারা ছুটি কাটাতে বেড়িয়ে পড়েন, ইউরোপের যে যেখানেই থাকুক কেনা কাটার সুযোগটি হাত ছাড়া করেন না কেঊ।

প্যারিসের আইফেল টাওয়ার
আর যারা থেকে যান তারা চলে যান নিজের গ্রামের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে। কখনো ঘোড়া দৌড়িয়ে ,কখনো বা ঊন্মুক্ত মাঠে বারবিকিঊ পার্টি করে, নয়তো নদীতে নৌকা চালিয়ে সময় কাটিয়ে দেন।

প্রাচীন রোম নগরী
ইউরোপীয়ান দেশগুলো সরকারী ভাবেও সে দেশের সল্প আয়ের নাগরিকদের ছুটি কাটানোর জন্য বিশেষ ভাতা দিয়ে থাকে। এসব দেশের সোস্যাল সাভিস নাগরিকদের বিমান, রেল ও হোটেলের আংশিক খরচ বহন করে থাকে। ইঊরোপের সামার ভেকেশান জুলাই মাস থেকে পুরোপুরি শুরু হয়। এসময় অফিস আদালত, স্কুল, কলেজ,ইঊনিভারসিটি সব বন্ধ হতে শুরু করে। রাস্তায় গাড়ি, লোক চলাচল কমে আসে। এসময়ে শহরের টুরিষ্টিক পয়েন্টগুলোতে লোকজনের ভিড় দেখা গেলেও শহরের বাইরের এলাকাগুলোকে মনে হয় ভূতুরী নগরী। ইন্টারন্যাশাল এয়ারপোট ও রেল ষ্টেশনগুলোতেও প্রচুর ভিড় দেখা যায়। ছেলে-মেয়ে সবার পরনেই হাফ শার্ট[ - প্যান্ট, পায়ে কেটস। তবে যে জিনিষটি চোখে পড়ার মতো, সেটি হলো ছেলে-মেয়ে সবার কাধে লম্বাকৃতির বিশাল বিশাল ব্যাগ। ইউরোপিয়ানরা এই বিশাল বিশাল ব্যাগ নিয়ে ট্রাভেল করতে বেশ সাচ্ছন্দ বোধ করেন।
সারা ইউরোপে অনেক বিদেশি অভিবাসী আছেন। যাদের অনেকের অরজিন এশিয়া কিংবা আফ্রিকাতে, তাদের অনেকেই ছুটি কাটাতে স্ব-পরিবারে চলে যান নিজ নিজ দেশে।

এথেন্স নগরী
আমাদের দেশের মত এখানেও সামারে পিকনিকের ধুম পড়ে যায়। ইউরোপিয়ানরা নিজেদের গাড়ি নিয়ে চলে যান সমুদ্র তীরবর্তীকোনো জায়গায় অথবা কোন পাহাড়িয়া এলাকায়। সাথে নিয়ে যান খাবার-দাবার , পাণীয়। আর বিদেশী অভিবাসীরা দল বেধে পিকনিক করেন এই সময়টায়। লাক্সারিয়াস বাস ভাড়া করে দল বেধে চলে যান দূরবর্তী নৈসগিক সুন্দর কোন জায়গায়।প্রবাসে থেকেও দেশীয় গান, খেলাধুলা আর আনন্দ ফূতি করে দিনটি কাটিয়ে আসেন।

জুরিখ নগরী
ওয়াসিম খান পলাশ
প্যারিস, ফ্রান্স
E-mail : polashsl@yahoo.fr




মন্তব্য»
No comments yet — be the first.