jump to navigation

কালো টাকা সাদা করাকে অনৈতিক মনে করেন অর্থমন্ত্রী জুন 13, 2009

Posted by bangla71.net in বাংলাদেশ, ব্যাবসা বাণিজ্য, রাজনীতি, সংবাদ, সংসদ, সমসাময়িক.
Tags: , , , ,
trackback

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

বাস্তবতার নিরিখে বাজেটে টানা তিন বছর কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া প্রশ্নে রাজনীতির কাছে নীতি-নৈতিকতা হেরে গেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শুক্রবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী কিছুটা হতাশার সুরে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাস্তবতার নিরিখে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া অনৈতিক। এর আগেও আমি বার বার আমার এ মনোভাবের কথা জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে নন। তিনি নিজেও আমার মনোভাবের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। কিন্তু, পলিটিক্স ইজ হাইয়েস্ট আর্ট অব কমপ্রোমাইজ (রাজনীতি আপসের সেরা শিল্প)। রাজনীতিতে কখনও কখনও সমন্বয় করতে হয়। আমাদের দল কোনো ব্যক্তির দল নয়। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সবার মতামতকে গুরুত্ব দেই। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতেই দেশে ব্যাপকহারে বিনিয়োগ বাড়াতে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মুহিত বলেন, দুর্নীতির ফসল কালো টাকা। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরুরি অবস্থার সময়েও দুর্নীতি কমেনি। দুর্নীতি বন্ধ করা সহজ ব্যাপার নয়। এটা সামাজিক ব্যাধি। অনেক সময় এদের (দুর্নীতিবাজদের) সুযোগ দিতে হয়। আর এ সব বিষয় বিবেচনায় রেখেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এ সুযোগ দেওয়ার ফলে সফল হবো কিনা-তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে আমরা এ বিষয়টিকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবো। যদি দেখি কোনো ব্যক্তি এ সুযোগ নিয়ে (কালো টাকা সাদা করে) দেশে শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেনি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেনি, তবে ২০১২ সালের পর এ সুযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতাহার করে নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বক্তব্য রাখেন। বৃহস্পতিবার প্রধান বিরোধীদল বিএনপির অনুপস্থিতিতে সংসদে ২০০৯-১০ অর্থবছরের জন্য এক লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রথম এ বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে কোনো প্রশ্ন ছাড়া তিন বছরের জন্য অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয় এ বাজেটে। মুহিত আগামী ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যসহ মোট ৪২টি খাতে বিনিয়োগ করলে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। নদী বা সমুদ্র বন্দর, কন্টেইনার টার্মিনাল, অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো, অথবা কন্টেইনার ফ্রেইট স্টেশন, মনোরেল, এলিভেটড রোড, পাতাল রেল নির্মাণসহ ভৌত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একই হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয় নতুন বাজেটে। এছাড়া পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানির শেয়ার কেনায় বিনিয়োগ করা হলে লগ্নি করা অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত আয় আগামী তিন বছর বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমরা সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগকে যেমন অবারিত করতে চাই, তেমনি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও অর্জন করতে চাই। এমন অনেক সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে-যা আমাদের দিনবদলের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আর এ লক্ষ্যে আমি ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কতিপয় নতুন শিল্প অথবা এই শিল্পের মেরামত, আধুনিকায়ন ও স�প্রসারণে এবং ভৌত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকৃত অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান সাপেক্ষে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত আয় মেনে নেওয়ার প্রস্তাব করছি। যে সব শিল্পে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করা যাবে এগ্রো প্রসেসিং শিল্প (ফল প্রক্রিয়াকরণ, বেবী কর্ন প্যাকেটজাতকরণ শিল্প, ফলের জুস প্রস্তুতকারী, রাবার শিল্প), টেক্সটাইল, স্পিনিং, টেক্সটাইল মেশিনারিজ, গার্মেন্টস, চামড়াজাত পণ্য, খেলনা, আসবাবপত্র, তথ্য-প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যাল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, মেলামাইন, প্লাস্টিক দ্রব্যাদি, সিরামিক, স্যানেটারিওয়্যার, আইরন আকরিক থেকে স্টিল, এমএস রড, সিআই শীট, সার, কীটনাশক, কম্পিউডার হার্ডওয়্যার, পেট্রো কেমিক্যালস, কৃষি যন্ত্রপাতি, বয়লার, ওষুধ শিল্প, রাসায়নিক দ্রব্য ও ফার্মাসিউটিক্যালসের মৌলিক উপাদান, ক�প্রসার উৎপাদনের নিয়োজিত শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, ডায়মন্ড কাটিং শিল্প, চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, অ্যাকুমুলেটর ও ব্যাটারি প্রস্তুত শিল্প, ট্যুর অপারেটরস, এনার্জি সেভিংস বাল্ব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, পরিত্যক্ত বর্জ্য থেকে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্প, পাটজাত পণ্য, পরিবেশ বান্ধব হিসেবে রি-সাইক্লিং শিল্প, ভেষজ ওষুধ শিল্প, মৌলিক কেমিক্যাল ও রং, কসমেটিকস ও টয়লেট্রিজ শিল্প, পর্যটন শিল্প, ফুটওয়্যার, এমএস বিলেট উৎপাদন শিল্প অথবা অফিসিয়াল গেজেট দ্বারা প্রকাশিত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান। ভৌত অবকাঠামো নদী বা সমুদ্র বন্দর, কন্টেইনার টার্মিনাল, অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো অথবা কন্টেইনার ফ্রেইট স্টেশন, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও ট্রান্সমিশন লাইন, সিএনজি টার্মিনাল ও ট্রান্সমিশন লাইন, গ্যাস পাইপ লাইন, ফ্লাইওভার, এলিভেটেড রোড, মনোরেল, পাতাল রেল, মোবাইল ফোন ছাড়া টেলিফোন অবকাঠামো, বৃহৎ পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট ও পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ, বর্জ্য পরিশোধনাগার প্ল্যান্ট, সৌরশক্তি প্ল্যান্ট অথবা অফিসিয়াল গেজেট দ্বারা প্রকাশিত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যে কোনো ভৌত অবকাঠামো। টানা তিন বছর কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার এ প্রস্তাবকে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা স্বাগত জানালেও দেশের অর্থনীতিবিদরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা তিন বছর এ সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন।

মন্তব্য»

No comments yet — be the first.