jump to navigation

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭৯ হাজার ৪৬১ কোটি জুন 11, 2009

Posted by bangla71.net in বাংলাদেশ, ব্যাবসা বাণিজ্য, রাজনীতি, সংবাদ, সংসদ.
Tags: , ,
trackback

সম্পূর্ণ বাজেটটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন। ছবি: বিডিনিউজ 24

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন। ছবি: বিডিনিউজ 24

আগামী ২০০৯-১০ অর্থবছরের জন্য এক লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ অঙ্ক জিডিপির ১৬.৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা যা জিডিপির ১১.৬ শতাংশ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টা ৩৬ মিনিটে বাজেট ভাষণ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের এটাই প্রথম বাজেট। দেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) খাতে মোট ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর এর নাম দেওয়া হয়েছে অবকাঠামো বিনিয়োগ তহবিল। এবারের বাজেটে এই পিপিপি ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। এর আগে কখনই বাজেটে এ ধরনের খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। মোট রাজস্ব ঘাটতি ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ২০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এবং বিদেশী ঋণ ও অনুদান থেকে ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা হবে। নতুন বাজেটে কৃষি উপকরণে ভর্তুকি দেওয়া হবে ১৫০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ হবে ৬শ’ কোটি টাকা। দেশের বিনিয়োগ কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) খাতে মোট ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর এর নাম দেওয়া হয়েছে অবকাঠামো বিনিয়োগ তহবিল। এবারের বাজেটে এই পিপিপি ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। এটি বাজেটে একটি নতুন খাত হিসেবে যুক্ত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, পিপিপি’র মাধ্যমে বিনিয়োগ কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে পিপিপি বাজেটে ২ হাজার ১শ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ বরাদ্দ দিয়ে অবকাঠামো বিনিয়োগ তহবিল গঠন করা যাবে। যেখান থেকে সরকারের তরফ থেকে প্রকল্পের ধরণ অনুযায়ী বেসরকারী বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে সমমূলধন অথবা ঋণ সহায়তা হিসেবে সরকারের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এ তহবিল থেকে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হবেও জানান মুহিত। বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তির সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতকে মিলিয়ে মোট ২১ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ১৯ শতাংশ। এই বরাদ্দ চলতি ২০০৮-০৯ অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। গতবার কেবল শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা বাজেটে মোট বরাদ্দের ১২ শতাংশের বেশি ছিল। বর্তমানে যেকোনও ধরনের মোবাইল ফোন সেটের জন্য ৩০০ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট শুল্ক (স্পেসিফিক রেট অব ডিউটি) দিতে হয়। কিন্ত আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই শুল্ক হার পরিবর্তন করে প্রতিটি মোবাইল ফোন সেটের মূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে কৃষকের কাছে কীটনাশক সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কীটনাশক তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে। অর্থমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য দেশজ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সরকার কৃষিকে সর্বাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে বয়স্ক নাগরিক এবং পেনশনভোগীদের উপর প্রত্যক্ষ করের বোঝা লাঘবের চেষ্টা করেছেন। তবে কর অবকাশ তুলে দিয়ে স্বল্প হারে কর আরোপ করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, করভিত্তি স�প্রসারণের মাধ্যমে আয়কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি জাতীয় কর ট্রাইব্যুনাল নামের একটি নতুন আদালত স্থাপনের প্রস্তাব করেন। সেইসঙ্গে আরো বেশি মানুষকে করের আওতায় আনার জন্য বভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী বয়স্ক করদাতাদের ব্যক্তিগত করের বোঝা লাঘবে তাদের বিদ্যমান বয়সসীমা ৭০ থেকে কমিয়ে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব করেন। ব্যাপক জনগণের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য তিনি ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদে কতিপয় নতুন শিল্প অথবা এই শিল্পের মেরামত, আধুনিকায়ন ও স�প্রসারণে এবং ভৌত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকৃত অপ্রদর্শিত আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান সাপেক্ষে বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়ার প্রস্তাব করেন। এছাড়া পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কম্পানির শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগ করা হলে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান সাপেক্ষে বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের বাজেটে ২১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও গত অর্থ বছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮৫ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭৯ কোটি টাকা। প্রসঙ্গতঃ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ফুটবল-উন্নয়নের জন্য গত মাসে কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন অর্থমন্ত্রীর কাছে। বাজেটে সারাদেশে সৃজনশীল সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশের লক্ষ্যে ১৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আবদুল মুহিত বলেন, দেশব্যাপী সৃজনশীল সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যাপক বিকাশের লক্ষ্যে উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার। যারা দুস্থ ও অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবী তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করবো। তরুণ প্রজন্মকে পাঠমনস্ক করে তোলার জন্য আমরা দেশের সর্বত্র গণগ্রন্থাগার গড়ে তুলবো। একই সঙ্গে এসব গ্রন্থাগারে সৃজনশীল বই সরবরাহের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করবো। আগামী ২০০৯-১০ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে প্রত্যাশা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির চলমান মন্দার কারণে নতুন অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি (মোট দেশজ উৎপাদন) ৫ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী দুই বছর (২০১০-১১ ও ২০১১-১২) এই প্রবৃদ্ধি আবার উর্ধ্বমুখী হবে। বার্ষিক মূল্যস্ফীতি চলতি ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ৭ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে। তিনি আরও জানান, ২০১২ সালের পর দেশে আর কোনো কর অবকাশ সুবিধা থাকবে না। ঐ সময়ের পর সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকেই কিছু না কিছু কর দিতেই হবে।

মন্তব্য»

1. Mohammed Abdulhaque - জুন 12, 2009

জাকিরভাই কেমন আছেন?

bangla71.net - জুন 13, 2009

ভালো, আপনার খবর কি ?