প্রধানমন্ত্রীর স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার জীবনাবসান মে 9, 2009
Posted by bangla71.net in জীবনী, বাংলাদেশ.Tags: ওয়াজেদ, wazed
trackback

বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া
বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনির সমস্যাসহ হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, শনিবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রোববার সকাল ১০টায়। এরপর তার লাশ রংপুরের পীরগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নেয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে বাবা-মার কবরের পাশে দাফন করা হবে।
স্বনামধন্য পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়া কাটিয়েছেন কর্মময় জীবন। প্রতিভাবান, মেধাবী এই বিজ্ঞানী প্রতিটি মুহুর্ত দেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। রাজনৈতিক সচেতনতা তার বর্ণাঢ্য জীবনে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। ১৯৭১ সালে এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং এর আগে ও পরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ফতেহপুর গ্রামের বিখ্যাত মিয়াবাড়িতে জন্ম নেন ড. ওয়াজেদ মিয়া। ১৯৫৬ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করার পর ১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পড়ার সময় থেকেই ধীরে ধীরে সংশ্লিষ্ট হতে শুরু করেন রাজনীতির সাথে।
মেধাবী ছাত্র হিসেবে তার সুনাম ছিল। সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও আদর্শের প্রতি অনুগত হয়ে পড়েন তিনি। ১৯৬১ সালে ফজলুল হক হলের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ থেকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের কারণে তিনি কিছুদিন কারাবরণ করেন। তখনই পরিচয় হয় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সাথে।
১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি পাশ করার পরের বছর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে আণবিক শক্তি কমিশনে চাকরিতে যোগ দেন।
১৯৬৭ সালে লন্ডনের ডারহাম বিশ্বিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের পর দেশে ফেরার পর একই বছর ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাথে বিয়ে হয় তার। সেসময় আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ড. ওয়াজেদ সক্রিয় ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হওয়ায় পরিবারটির আনন্দ বেদনা ও দুঃসময়ে ড. ওয়াজেদও এর অংশীদার ছিলেন।
১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির জনক সপরিবারে নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও দুই সন্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুদীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর কাটাতে হয় তাকে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার দায়িত্ব নেয়া এবং রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় তিনি সবসময় পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়ে এসেছেন।
সফল পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯৯ সালে অবসর নেন।




ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। ক্ষমাতার অধিকারি হয়ে ও যে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন নি। সে অবশ্যই শ্রদ্ধ্যা পাওয়ার যোগ্য। আমি তার পরকালে মংগল কামনা করি।